অশ্রু
আব্দুল মান্নান মল্লিক
কখনো আমার ইচ্ছা করে নির্জনে কোথাও একা একাই চুপচাপ বসে থাকি। মানুষ মাত্রেই চিন্তাশীল, তাই সেই সময় কোথায় যেন লুকিয়ে থাকা স্মৃতিগুলো মাঝে মাঝেই আমাকে উস্কানি দিয়ে যায়। কখনো আমার গর্ভধারিণী মায়ের কথা, কখনো আমার শৈশবকালের বোনের কথা।
আজকেও তেমনি ফিরে আসি ছয়-এর শৈশবে।
বেলি নামে আমার এক বোন ছিল। আমার বয়স ছয় বছর, বোনের বয়স দুই বছর। পরনে ছিল দরজি দিয়ে বানানো কিনারা কোঁচানো অন্তর্বাস, আর গায়ে ছিল লাল রঙের জামা। আজও মনে পড়ে এই পরিধানে ছোটো ছোটো তিনটে বালিশ, একটি মাথায় ও দুপাশে দুটি। হাত-পা নেড়ে সুন্দর খেলছিল। পাশে ছিল দুধের বোতল। মা তখন রান্নাঘরে।
আমি খেলতে খেলতে ওর কাছে গিয়ে বসে দুধের বোতল হাতে তুলে ওর সারা গা ভিজিয়ে দিয়েছি। বেলির কান্না শুনে মা রান্নাঘর ছেড়ে ছুটে এসে বেলিকে কোলে তুলে আমাকে তাড়া করে। আমি দৌড়ে দূরে পালিয়ে যায়।
প্রায় মাস দুয়েক পর বেলি জ্বরে পড়ে। তিন দিনের দিন বেলি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেল।
সেই-সব স্মৃতিগুলো ক্ষণেক্ষণে আজও আমার কোমল হৃদয়কে দোলা দিয়ে যায়।
তখনকার দিনে এখনকার মত ডাক্তার, বৈদ্য, হাতের কাছে কিছুই ছিলনা। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় বোনের মৃত্যুর জন্য দায়ী একমাত্র সময়।
আব্দুল মান্নান মল্লিক
কখনো আমার ইচ্ছা করে নির্জনে কোথাও একা একাই চুপচাপ বসে থাকি। মানুষ মাত্রেই চিন্তাশীল, তাই সেই সময় কোথায় যেন লুকিয়ে থাকা স্মৃতিগুলো মাঝে মাঝেই আমাকে উস্কানি দিয়ে যায়। কখনো আমার গর্ভধারিণী মায়ের কথা, কখনো আমার শৈশবকালের বোনের কথা।
আজকেও তেমনি ফিরে আসি ছয়-এর শৈশবে।
বেলি নামে আমার এক বোন ছিল। আমার বয়স ছয় বছর, বোনের বয়স দুই বছর। পরনে ছিল দরজি দিয়ে বানানো কিনারা কোঁচানো অন্তর্বাস, আর গায়ে ছিল লাল রঙের জামা। আজও মনে পড়ে এই পরিধানে ছোটো ছোটো তিনটে বালিশ, একটি মাথায় ও দুপাশে দুটি। হাত-পা নেড়ে সুন্দর খেলছিল। পাশে ছিল দুধের বোতল। মা তখন রান্নাঘরে।
আমি খেলতে খেলতে ওর কাছে গিয়ে বসে দুধের বোতল হাতে তুলে ওর সারা গা ভিজিয়ে দিয়েছি। বেলির কান্না শুনে মা রান্নাঘর ছেড়ে ছুটে এসে বেলিকে কোলে তুলে আমাকে তাড়া করে। আমি দৌড়ে দূরে পালিয়ে যায়।
প্রায় মাস দুয়েক পর বেলি জ্বরে পড়ে। তিন দিনের দিন বেলি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেল।
সেই-সব স্মৃতিগুলো ক্ষণেক্ষণে আজও আমার কোমল হৃদয়কে দোলা দিয়ে যায়।
তখনকার দিনে এখনকার মত ডাক্তার, বৈদ্য, হাতের কাছে কিছুই ছিলনা। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় বোনের মৃত্যুর জন্য দায়ী একমাত্র সময়।
No comments:
Post a Comment