Saturday, 12 October 2019

লোভের আশায়, পাপই সহায়।

লোভের আশায়,
পাপই সহায়।

আব্দুল মান্নান মল্লিক

লোভ যেদিন চারিপাশে ঘিরে ধরে, সেদিন সবাই পর হয়ে যায়, থাকে শুধু প্রিয় জন বলতে একমাত্র পাপ। যতোই তুমি পাপকে এড়িয়ে চলতে মৃত্যু চাও, পাপ ততই বিকট হবে। তোমার মৃত্যুর পথ অবরোধ করে তোমাকে কুরে-কুরে খাবে।
ক্ষমতার অধিকার পেয়ে, ক্ষমতাকে অবৈধ কাজে ব্যবহার করে, টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছ তাইনা? আসলেই সেটা, তোমার অজান্তে পাপের পাহাড়!
ঐ পাপের পাহাড় চাপা পড়ে ছটফট করতে থাকবে তোমার পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ তোমার সন্তানেরা। তোমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত তাদেরকেই করতে হবে, যাদেরকে তুমি প্রাণের চেয়েও বেশী ভালোবাসতে।
ভেবে দেখেছ? সেদিন হয়তো থাকবেনা তুমি!

Thursday, 11 April 2019

ক্ষমতার সদ্ব্যবহার

ক্ষমতার সদ্ব্যবহার

আব্দুল মান্নান মল্লিক

১। প্রতিবাদী কথা হলেও এমন দৃষ্টিভঙ্গিতে বল, সে যেন তোমার কথার জবাব দেওয়ার সুযোগ পায়। তা নাহলে তোমার কথা হবে মূল্যহীন।
২। কাউকে শাসন কর, তার ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ রেখে। এ-র বেশী তার কাছে প্রত্যাশা করা মানে অবৈধ প্রত্যাশা।

Saturday, 23 March 2019

ভ্রান্ত পথিক

ভ্রান্ত পথিক

আব্দুল মান্নান মল্লিক 

হায়রে হায় এ মানব সমাজ,
প্রাণনাশে প্রাণীর সেবা?
বিশ্বজুড়ে অভিনেতা,
কেবা আপন পর হয় কেবা?
জীবের ভক্তি শুনতে মিষ্টি,
রক্ত লোলুপ আত্মতুষ্টি!

মহত্ত্ব

মহত্ত্ব

আব্দুল মান্নান মল্লিক 

আত্মতৃপ্তি নয়, আত্মত্যাগই সর্বোত্তম বলি।
শয়তান দ্বারা গ্রাসিত আত্মাকে উদ্ধার করতে , ঘরে বসবাসকারী শয়তানকে হত্যা করার নামই বলি।
এ আমার ব্যক্তিগত মত।

চেতনা

চেতনা

আব্দুল মান্নান মল্লিক   

সমান সমান চৈতন্যময় সত্তায়,
বল প্রয়োগ পরমাত্মার দোহাই।
জ্ঞান মস্তিষ্ক থাকে যদি ধীর সুস্থতায়,
অসহায় প্রাণীকুলের মানব সহায়।
মহান সেই জন প্রমাণ যোগ্যতাই,
নচেৎ সমল হবে কঠোর পরীক্ষায়।

Wednesday, 13 March 2019

অপ ব্যঞ্জনা

অপ ব্যঞ্জনা

আব্দুল মান্নান মল্লিক

আমি প্রলয় আমি ঝর্ণা,
কখনো অম্বুদ শিশিরকণা।
আমি মহাবীর কালজয়ী,
কখনো শান্ত ধরাশায়ী।
আমি স্বচ্ছ কলঙ্কিতায়,
তবু নির্মল মলিনতায়।

Saturday, 2 March 2019

ঈশান কোনে মেঘ উঠেছে,
আকাশ আঁধার কালো।
পাড়ার ছেলে ঘর ছেড়েছে,
লাগছে বেজায় ভালো।
কোলা ব্যাঙে তবলা বাজায়
ফিঙে নাচে গাছে।
কাতলা মাছের বড় মাথায়
ফড়িং চড়ে নাচে।।

Wednesday, 13 February 2019

চল যায় বসন্তের দেশে

চল যায় বসন্তের দেশে

আব্দুল মান্নান মল্লিক

আমাদের এ-ই বৈচিত্র্যময় বাংলা, সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম। ছয় ঋতুর ষড়ঋতু, অর্থাৎ শেষ ঋতু বসন্ত। ছয় ঋতুর পাঁচ ঋতুকে বিভিন্ন রূপ-জৌলুষে দেখলেও; বসন্তের রূপ-জৌলুষ একেবারেই অন্যতম। 
তবে একেবারে না বললেই নই। কার না ভালো লাগে, বসন্তের হাত ধরে; পায়ে পা মিলিয়ে চলতে? 
আসতে না আসতেই মনে পড়ে যায়; কোকিলের কুহু-কুহু মধুর বোল। বসন্তের দূত বলতে কোকিলের সাথেই আমরা বেশী পরিচিত। বসন্তকাল ছাড়াও কম-বেশি এদের-কে বছরের অধিকাংশ সময়ই ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়।  এমনও কিছু পাখি আছে যে, একমাত্র বসন্তকালেই দেখতে পাই। সুন্দর এ-ই পাখিটির নাম বৌরি পাখি। আমাদের বাংলার মানুষ কেউ-কেউ বসন্ত বৌরি নামেও সম্বোধন করে।
  বসন্তকালে আমাদের বাংলায় বড় পাখির তুলনায় বিভিন্ন ধরনের রঙবেরঙের ছোটো ছোটো পাখিদের ভীড় জমে বেশী।
এবার আসি বসন্তকালীন রংচঙে ফুলের কথায়। বসন্তকালে গাছে-গাছে বিভিন্ন রংচঙে ফুলের মাঝে মনে পড়ে যায়, শিমুল ফুলের কথা। বসন্তকালের এই ফুলটির সাথেই বাংলার মানুষ বেশী পরিচিত।
আবহমান বসন্ত তার রূপ জৌলুশ নিয়ে দশ মাস পর পর প্রতি বছর দুই মাসের অতিথি হয়ে এসে, আমাদের বাংলাকে নব যৌবন রূপে পুনর্জীবন করে তোলে। রঙে রঙে ভরে ওঠে সারা বাংলা।
আজ বসন্ত।
পাখি গাইবেই, ফুল ফুটবেই।
তরঙ্গে তরঙ্গে সুরভিত গুঞ্জরিত।
রঙ্গশালা বঙ্গ আমার এলোরে এলো বসন্ত।।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ভেঙে উন্মুক্ত করে দিল বাংলা তার বদ্ধ দুয়ার দখিনা বাতাসের সম্মুখে। এক গুচ্ছ রঙবেরঙের ফুলের সাজি আর ছোটো ছোটো রঙবেরঙের পাখিদের নাচ-গান নিয়ে বসন্তের পদার্পণ। গাছের বাহু জড়িয়ে ধরে নানান রঙে ফুলেদের হাসি আর পাখিদের গানে-গানে বাংলা আজ উল্লাসিত। বুড়িয়ে যাওয়া বড়-বড় গাছগুলো, যেমন কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, নাগেশ্বর, নাগকেশর, মহুয়া, বেল আরও কতকিছু। এরা সবাই আজ বসন্তের ছোঁয়া পেয়ে পুরাতন শুকনো পাতার পরিধান ছেড়ে আজ ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে নতুন সাজে।  এখানে সেখানে, আদাড়ে বাদাড়ে অবহেলায় পড়ে থাকা নাম না জানা ছোটো ছোটো জংলী গাছগুলো দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর, তারা ও আজ ফুলে ফুলে নতুন সাজে সেজে উঠেছে।  গাছে গাছে পাখিদের কলকাকলি, ফুলের রেণু গায়ে মেখে প্রজাপতিদের বক্র-পথে বিচরণ,  আম বনের মৌগন্ধে মৌমাছিদের গুঞ্জরন; আর ফুলে ফুলে গুঞ্জন পাখির চুম্বন। সোনা বউ পাখির টেরা চোখের চাহনিতে বুলি আওড়ানো বউ কথা কও, বউ কথা কও। 
যেদিকে চাই আকাশ বাতাস সুরভিত, নজর কাড়া রঙ-জৌলুশ, পাখিদের কলতান, সব মিলিয়ে সারা বাংলা আজ বসন্তের তালে তাল মিলিয়ে বিচিত্র বর্ণসমন্বিত হয়ে উঠেছে।
আহারে, আর কি চায় আমরা!
কিসের প্রয়োজন সাজানো ফুলের বাগান,
কি প্রয়োজন পোষ মানানো পখির গান।।
চাইনা গো আর বোতল বন্দী ঘরের সুঘ্রাণ।
সবার সেরা সব পেয়েছি স্রস্টার শ্রেষ্ঠ দান।।