Sunday, 7 October 2018

দিবানিশি

দিবানিশি

আব্দুল মান্নান মল্লিক

শুভ্রা বিশাল ক্ষমতাশালী এক নারী, দৈব শক্তির অধিকারীনি ও তেজস্বীনি। তিনি কখনো কঠোর আবার কখনো মমতাময়ী। সঙ্কটকালে মানুষের পাশে এসে বিপদমুক্ত করেন। তাই তিনি সবার কাছে খুব প্রিয় হয়ে উঠেছেন। শুভ্রার প্রতিভা তীব্র গতিতে প্রভাব বিস্তার করে প্রতিটা মানুষের মনে। মানুষ তাদের সুখ দুঃখের দায়ভার সমস্ত মমতাময়ী শুভ্রার হাতে ন্যস্ত করেন।
তাই বছরে একবার ফুল চন্দন নানান উপকরণে জাঁকজমক করে সমাদরে শুভ্রাকে আহ্বান করেন। সেইসময় যে যার মতো অভাব অভিযোগ মমতাময়ী শুভ্রার কাছে পেশ করেন।
শুভ্রা প্রতিটা মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে দেখে অত্যাচারী শ্যাম বিচলিত হয়ে উঠলো, কিছুতেই এটা বরদাস্ত পারছেনা।
শ্যাম মনে মনে ফন্দি আঁটে, ছলে বলে কৌশলে শুভ্রাকে দূর্বল করে নিজেই বিশাল শক্তির অধিকারী হয়ে ত্রিভুবনের অধিপতি হবে। তাই সে শুভ্রাকে একা করে দিতেই শুভ্রা-র প্রিয়জনদের উপর দিনের পর দিন অত্যাচার করে এবং পশুর ন্যায় বল প্রয়োগ করে,এবং কারও প্রাণ নাশ করতেও দ্বিধান্বিত হয়না।
শ্যামের উদ্দেশ্য শুভ্রা-র অনুগতের প্রত্যেকেই ভয় পেয়ে ফিরে আসুক শ্যামের অনুগতে।
আসলেই তো শ্যাম পশুর আচরণে সৃষ্ট। তাই হিংস্র জন্তু জানোয়ার নিয়েই শ্যাম গোষ্ঠী।
ইচ্ছা করলে শুভ্রা স্বল্প ইশারাতেই শ্যাম গোষ্ঠীর প্রত্যেককে নিজের বসে আনতে পারেন , এমনকি দৃষ্টি শক্তি প্রয়োগ করে নিমেষেই ভস্ম করে দিতেও পারেন। শুভ্রার আগমনি বার্তা ছিল শ্যামের মহা বিষমকাল।
শুভ্রার ওজ্বল্যতা শক্তি ছিল শ্যাম গোষ্ঠীর সর্বনাশা।
তাই শুভ্রার মুখোমুখি দাঁড়াতে না পেরে নিরীহ ভক্তদের উপর হিংসার বল প্রয়োগ করে চলেছে।
শুভ্রার আগমনকালে শ্যাম ভয়ে নিজেকে নিরাপদ রাখতে সকলের অগোচরে অজানা ঠিকানায় আত্মগোপন করে। গোষ্ঠীর বাকী সকলের এইভাবে আত্মগোপন করার কৌশল জানা ছিলনা, তাই তারা ঝোপঝাড়  বা নোংরা ডোবা, খালে লুকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতো।
শুভ্রা-র অবর্তমানে শ্যাম রাজশাসন চালিয়ে যায়।  রাস্তাঘাটে গ্রাম-গঞ্জে শ্যাম গোষ্ঠী বলশালী বিকট চেহারা নিয়ে কর্কশ কন্ঠে বিকট চিৎকার চেঁচামেচি করে শুভ্রার ভক্তদের ভয় দেখিয়ে স্বপক্ষে টানতে চায়। শ্যাম গোষ্ঠী অত্যাচারের সীমা অতিক্রম করতে চলেছে। শুভ্রার ভক্তগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
আর নয়, নানান উপকরণে আবারও করুণাময়ী শুভ্রাকে আহ্বান করেছেন তার ভক্তগণ। শুভ্রা এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জানিয়েছেন, যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আসছেন। আরও জানিয়েছেন তিনি, এবারের যুদ্ধ হবে এমনই, বিনা রক্তাক্তে শ্যাম গোষ্ঠীর সবাইকে বন্দী করে তাদের অন্তরের অন্ধকারকে বোধ করবেন নিজের ঔজ্জ্বল্য প্রভায়।


Sunday, 5 August 2018

ভুল যখন ফুল হয়ে ফুটে

ভুল যখন ফুল হয়ে ফুটে

আব্দুল মান্নান মল্লিক

এক সঙ্গে খেলাধুলা থেকে শুরু করে, এক ক্লাসে একই স্কুলে পড়াশুনা করে আমরা বড় হয়েছি।
আমাদের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েকটা বাড়ি ছেড়ে একই পাড়াতে ওদের বাড়ি।
ছেলেবেলা থেকেই টিঙ্কুর খুটিনাটি এটাসেটা লিখালিখির অভ্যাস। দু-চার লাইনের কবিতা লিখে মাঝেমধ্যে আমাদেরকে দেখিয়ে বলতো, কেমন হয়েছে? আমরা সবান্ধবে না দেখেই টিঙ্কুকে খুশি করতেই বলতাম বা বেশ লিখেছিস। তাতেই টিঙ্কু খুব খুশি হতো। তখনো হয়তো সে মনে মনে  ভাবতো একদিন বড় কবি হবে।
আমরাও এতটা বুঝতে পারিনি, যে আমাদের উৎসাহই তার কবিতা লিখার একমাত্র সম্বল।
এমনিভাবেই দিন গড়িয়ে চলে।
হঠাৎ একদিন টিঙ্কু  আমাদের বাড়িতে এসে মায়ের কাছে আমার খোঁজ করছে। টিঙ্কুর কণ্ঠস্বর বুঝতে পেরে ঘর থেকে ভেরিয়ে দেখি, তখনও টিঙ্কু হাঁপাচ্ছে। টিঙ্কুকে জিজ্ঞেস করি তোর হাতে ওটা কিরে, টিঙ্কু বলে সেটাই তো, চল চল ঘরে চল সব বলছি। মা জিজ্ঞেস করে আরে, অমন করে হাঁপাচ্ছিস, কি হল বলবি তো? টিঙ্কু মায়ের কথায় কর্ণপাত না করে সোজা আমার ঘরে। কি এমন হল ভেবে ততক্ষণে মা ও পিছন পিছন ঢুকে পড়েছে।
টিঙ্কু যেন একেবারে আনন্দে আত্মহারা। এ-কোণ থেকে ওই কোণ, কখনো আমার শোয়ার খাটে, আবার উঠে পড়ে। এত বড় ঘরটাতেও যেন টিঙ্কুর জায়গা হয়না। টিঙ্কুকে ধরে খাটের উপর বসিয়ে বল্লাম ব্যাপার কি বলবি তো?
এবার একটু শান্ত হয়ে টিঙ্কু আমার হাতে বইখানা দিয়ে বললো, এই দেখ ম্যাগাজিনে আমার একটি কবিতা বেরিয়েছে।
আমি ধীরেসুস্থে বইটি খুলতে ওর আর তর সয়না। আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বলে, দাঁড়া আমি বার করে দিচ্ছি , বলে বইটি হাঁটকে চলেছে তো চলেছেই। চোখে পড়ামাত্র আমাকে দেখিয়ে বলল, এই দেখ্, বড়বড় অক্ষরে লেখা আমার নাম। পড়ে দেখনা কেমন হয়েছে? কাকি-মা আপনিও দেখেন। আমি আর মা দেখতে থাকি।
মা টিঙ্কুকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করে সংসার কাজে যোগ দিল।
সম্পূর্ণ পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো।
আশ্চর্য! টিঙ্কু যে এত সুন্দর কবিতা লিখবে ভাবতেও পারিনি।
কবিতার নাম শ্রেষ্ঠ বাঙালী।
টিঙ্কুকে জিজ্ঞেস করলাম, তোর এত সুন্দর কবিতা দেখে কাকা, কাকি-মা কি বললেন?
জবাবে টিঙ্কু বললো, বইটি হাতে পাওয়ামাত্র ছুটে এলাম তোর কাছে , চল এবার আমাদের বাড়িতে সবাইকে দেখাবো।
মনে মনে খুব লজ্জা পেলাম, আগের দিনের কথা ভেবে। ভাবতে থাকি, সবার আগে টিঙ্কু আজ চিত্তচাঞ্চল্যে ছুটে এসেছে বন্ধুর কাছে। আজ বুঝতে পারছি, বন্ধুত্ব কাকে বলে। সেটা চোখে আঙুল দিয়ে টিঙ্কুই দেখিয়ে দিল।
সবান্ধবে টিঙ্কুকে এতদিন যতটুকু মিথ্যা উৎসাহ দিয়েছি, সেটাকেই সত্য ভেবে সে পথ চলতে শুরু করে। মিথ্যা উৎসাহকে অবলম্বন করে আজ টিঙ্কু একজন বেশ বড় মাপের কবি।

যদিও সেই দিনটি friendship day হিসাবে ছিলনা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য ( লিখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কারও নামের সঙ্গে নাম মিললে বাস্তবকে নিয়ে কেউ টানাটানি করবেন না। )