Tuesday, 26 January 2016

বিলু ভুতের জীবনী

বিলু ভুতের জীবনী

আব্দুল মান্নান মল্লিক

(*****সম্পূর্ণ কাল্পনিক ঘটনা*****)
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦
বইটি প্রথম প্রকাশ হয়েছিল >২০১৬
সম্পাদক > হেংলা ভুতুম
ছাতিনে তলার পুস্তক প্রকাশন
asd 32, শেওড়া তলা
হাঁড়িগড়া , ধূধূলির মাঠ - ০০১২, ভুতরাজ্য
ইমেল > hht000+♣fals.story

মানুষেরা যেমন , কবিতা, গল্প, নাটক আরও বিভিন্ন ধরণের বই লিখে লেখক বা কবি হয়। আমাদের মধ্যেও কত ভালো ভালো লেখক আছে।
আমার নাম বিলু ভুতুম। ভুতের রাজ্যে আমি সবচেয়ে বড় লেখক। জীবনে অনেক বই লিখেছি। ইচ্ছা হলো ভুতরাজ্যের বাইরে মানুষের কাছে আমার লেখা বই একটা প্রকাশ করব। তাই আমার জীবনী দিয়ে লিখা এই বইটা মানুষদেরকে উপহার দিচ্ছি।
মানুষের সঙ্গে আমাদের চিরদিনের শত্রুতা, আজও মেটেনি। মানুষ আমাদের সাথে কোনোদিনই পেরে ওঠেনি। ওঝা, বদ্যি ওস্তাদ যায় বলনা কেন, এরা আজও আমাদের কিছু করতে পারেনি। এরা আজও আমাদের পিছনে লেগেই আছে। তাই এরাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় শত্রু। তবে আমরা সহজে কারও ক্ষতি করতে চাইনা, কেউ যখন আমাদের ক্ষতি করে, তাকে আমরা সহজে ছাড়ি না।
আমরা যে কোনো সময় যে কোনো রূপে রূপান্তরিত হতে পারি। মুহূর্তের মধ্যে আমরা, যে কোনো জীবজন্তুর রূপ ধারণ করতে পারি। আবার যখন ইচ্ছা করি, কারও আত্মাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে তার দেহে প্রবেশ করি, আমার ইচ্ছা যেটা চায়, তাকে দিয়ে করিয়ে নিয়। সেটা ভালো বা মন্দ যাই হোক, তার ঘাড়েই চেপে যায়।
♥(১) তোমাদের মধ্যে এক নাম করা ওস্তাদ ছিল। তার নাম হেকমত আলি, নিশ্চয় তোমরাও ওস্তাদ হেকমত আলির নাম শুনেছ। আমাদের কাজে বারবার বাঁধা দিয়েছে। অবশেষে আমরা অতিষ্ট হয়ে তার স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলেছি। দিনটা ছিল শনিবার। হেকমত আলির শরীরে প্রবেশ করেছিলাম। সামান্য কারণে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিলাম। পাড়ার অনেকেই ঝগড়া শুনে ছুটে আসে। এক কথা দু কথা হতে না হতেই তার স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে দিয়ে তার শরীর থেকে বেরিয়ে আসি। পাড়ার লোকজনে দেখলো হেকমত আলি তার স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেললো। স্ত্রীহত্যার অপরাধে হেকমত আলিকে পাঁচ বছর জেল হেফাযতে থাকতে হয়েছে। হেকমত আলি এখন অস্তাদগিরী ছেড়ে দিয়েছে।
♥(২) কানুর বাড়ির পিছনে একটি ঘন পাতা ভর্তি তেঁতুল গাছ। ধু-ধু রোদ্র, তাই একটু তেঁতুলগাছে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। কানুর বউ হেসিল ঘরে কি সব ভাজা ভুজো করছে । বাতাসে ভেসে আসছে শুটকি মাছের গন্ধ। ভুতেরা শুটকি মাছের গন্ধ পেলে আর স্থির থাকতে পারিনা। তাই একটি বিড়ালের রূপ ধরে ওই হেসিল ঘরে ঢুকে দেখি, তখনো ভাজাভুজো চলছে। আমি কেবলমাত্র মিউ করে ডাকতেই কানুর বউ আমার গায়ে গরম জল ঢেলে দিয়েছিল। আমি বেশ কিছুদিন কষ্ট পেয়েছি। তার জন্য কানুর বউকে এমন খেসারত দিতে হয়েছে, যে আজও চোখের জল ফেলে চলেছে।
কানুর ছোটছোট দুই ছেলে। বড় ছেলের শরীরে আশ্রয় নিয়ে দুই ভায়ে বাড়ির পূর্ব দিকের পুকুরের ধারে খেলতে থাকি। এদিক ওদিক তাকিয়ে আশপাশে কেউ নেই। ছোট ভাইকে দিলাম পুকুরে গড়িয়ে। ভাইটা হাত পা নাড়তে নাড়তে কি সুন্দর জলের মধ্যে তলিয়ে গেল। তারপর আমি কানুর বড় ছেলের দেহ থেকে বেরিয়ে আসি।
♥(৩) পটু রসিক নামে একটি মানুষ ছিল, বেশ বয়স্ক। লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করত। বাঁধিয়ে বাঁধিয়ে বেশ গল্প বলতে পারত।  প্রতিদিন সন্ধের পরে পথের ধারে এক বারান্দায় বসে গল্পের আসর জমাতো। আমাদের নামে কুৎসা রটিয়ে বিভিন্ন রকম গল্প বাঁধিয়ে বলতো, আর পাশে যারা শুনতো তারা হো-হো করে হাসত। যেটা আমরা মোটেই সহ্য করতে পারতাম না।
পটু রসিকের দৃষ্টিশক্তি তুলে নিয়েছিলাম। তাইবলে সে অন্ধ হয়ে যায়নি। আমার দৃষ্টি দিয়ে সে দেখতে পেতো। আমি যখন যেটা দেখতাম, সে তাই দেখত। তার খাবার সময় আমি দেখতাম সজনে গাছের পোকা, তার খাবারের থালাতে কিলবিল করত ঐ পোকা। পটু রসিক খাবার ছেড়ে উঠে পড়ত। বাড়ির লোককে বলতো, তোরা আমাকে পোকা খেতে দিয়েছিস? বুড়ো হয়েছি বলে যা ইচ্ছা তাই করবি? এই চললাম, বাড়িতে আর থাকব না, বলে লাঠি ধরে উঠতে যাবে? লাঠিকে দেখতো সাপ। বেচারা একেবারে নাকাল হয়ে গেছিলো। পাড়ার লোকেরা কেউ কেউ বলে, বুড়ো হয়েছে তাই ভীমরতি ধরেছে। এই কথা শুনে পটু রসিক আরও ক্ষেপে উঠলো।  বাড়ির লোকেরা ভাবলো, মাথার কোনো গণ্ডগোল হয়েছে। তাই কনকনে শীতের সময়, বাড়ির লোকেরা ঠাণ্ডা জল ঢেলে ভিজিয়ে দিল পটুর গোটা শরীর। তাতেও যখন সুস্থ হচ্ছে না, তখন মাথায় বরফ চাপিয়ে বেঁধে দিলো।
দুইদিনেই বেচারা মরণাপন্ন।
পটু রসিক বুড়ো মানুষ, তাই দুইদিন কষ্ট দেওয়ার পরে তাকে মুক্তি দিয়েছি। সবাই ভাবল বরফে ভালো কাজ হয়েছে।
♥(৪) সে অনেকদিন আগের কথা। পল্লীসমাজ নামে একটি দলের নেতা ছিলেন গজপতি নাথ। তিনি তার দলবল নিয়ে একদিন মিটিং করে
বলেছিলেন, এবার আমাদের প্রথম প্রকল্প, যত ভুতুড়ে গাছ আছে সব কেটে ফেলতে হবে। শেওড়া,তেঁতুল ও ছাতিনে, এই সব গাছ একটা ও রাখা চলবেনা।
নেতার এই নিষ্ঠুর ভাষণ শুনে আমরা, অর্থাৎ ভুতেরা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। মানুষেরা যদি এইভাবে আমাদের উপর অত্যাচার করে, তাহলে আমরা থাকবো কোথায়? ঠিক আছে দেখাচ্ছি মজা।
নেতার পরবর্তী মিটিং হাসিম নগরে। প্রচুর মানুষের সমাগম। আমরা জনা চারেক ভুত ঐ মিটিং-এ উপস্থিত হয়। নেতার ভাষণ দেওয়ার পূর্ব মুহুর্তে আমি উনার শরীরে প্রবেশ করি। এবার জনগণ চোখে দেখবে নেতাকে , আর ভাষণ দিবো আমি।
স্টেজে উঠতেই চারিদিকে হাত তালি পড়তে লাগলো। আমি হাতের ইশারা দিয়ে সবাইকে শান্ত হয়ে বসতে বললাম। সবাই ভাষণ শুনতে চুপচাপ বসে পড়লো।
শুরুতেই বক্তব্য রাখলাম-
বন্ধুগণ, আমরা আজ এখানে সবাই উপস্থিত হয়েছি নতুন যোজনা বিকাশের জন্য। আমাদের এলাকার পরিস্থিতি উন্নতির দিকে এগিয়ে চলেছ। আমরা সবাই ধনী, মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্র্যতায় জীবন যাপন করছে। আজ যদি এই মানুষগুলো না থাকতো, দেশের মর্যাদা অনেক বেড়ে যেতো। বাইরের কোনো দেশে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারিনা। আমরা গর্ব করে বলতে পারিনা, যে আমাদের দেশের সবাই ধনি। এর জন্য আমাদের এলাকার মানসম্মানের হানি হয়।
তাই আমরা নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছি , বিনা পয়সাতে বিষ বিতরণ। বিষের দোকানে নিজের নাম সাক্ষর করলেই দোকানদার ২৫ গ্রাম পরিমাণ মতো বিষ দিয়ে দিবে। এটা তারাই পাবে, যারা দারিদ্র্যতায় জীবন যাপন করছে। আজ থেকে এক মাসের মধ্যে, প্রতিটা গরীব মানুষকে এই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে হবে। যে না করবে তাকে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হবে।
নেতার এই অবৈধ অশ্লীল ভাষণ শুনে এলাকার জনগণ ক্ষেপে উঠলো। কিন্তু প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পাচ্ছিল না।
মানুষের রূপে বসে থাকা আমার সঙ্গী তিনজন হৈ-হুল্লোর শুরু করে দিতেই, জনগণ সবাই স্টেজ ভেঙে নেতা গজপতি নাথকে টেনে নিচে নামিয়ে বেদম মারপিট আরম্ভ করে দিল। মারপিট আরম্ভের মুহুর্তে ওর শরীর থেকে বেরিয়ে আসি। বেচারা গজপতি নাথ মারের কারণ কিছুই বুঝতে পারলেননা।

♣ ( বিশেষ দ্রষ্টব্য, আমার এই বইটা মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তোমরা আমাদেরকে আমাদের মতো থাকতে দাও, আর তোমরা তোমাদের মতো থাকো। আমাদের স্বাধীনতার ব্যাঘাত ঘটালে তোমাদেরও ওই হাল হবে। )

Tuesday, 19 January 2016

অধম মধ্যম উত্তম

অধম মধ্যম উত্তম

আব্দুল মান্নান মল্লিক

( ১ ) কোনো এক ব্যক্তি , যে ব্যক্তি অপরকে ঠকিয়ে দশ হাজার টাকার ধান্দা করলো। হঠাৎ ঐ ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। ডাক্তার ও ঔষধ পত্রে বিশ হাজার টাকা খরচা করে রোগমুক্ত হল। সে মনেমনে ভাবতে লাগলো, লোক ঠকানো ঐ দশ হাজার টকা যদি না থাকতো, তাহলে আমি রোগমুক্ত হতে পারতাম না। অকালেই মৃত্যুকে মেনে নিতে হতো। আমার কাছে ছিল মাত্র দশ হাজার টাকা।
( ২ ) ঐ রকম এক অপর ব্যক্তি, তারও একই হাল হয়েছিল, কিন্ত এই ব্যক্তি অনুতপ্ত হল ও ভাবতে লাগলো, এটা আমার পাপের ফল, লোক ঠকিয়ে দশ হাজার টাকার ধান্দা যদি না করতাম, তাহলে আমার কোনো রোগই হতো না। আমার নিজস্ব দশ হাজার টাকা আমার কাছেই থেকে যেতো।
( ৩ ) অন্য এক ব্যক্তি সে ভাবতে লাগলো , আমি ভালোই আছি। ঐ দুই ধরণের প্রতারক, আমি কাউকেই পছন্দ করিনা।

( একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যে যেমন প্রকৃতির ব্যক্তি, সে সেইরকমই মন্তব্য করে বসে। )
♥♥
১ নং অধম, ২ নং মধ্যম, ৩ নং উত্তম।